ঢাকা, মঙ্গলবার (১০ মার্চ):
নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং দ্রব্যমূল্যের চাপ থেকে স্বস্তি দিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল পৌনে ১১টায় রাজধানীর বনানী টিঅ্যান্ডটি (T&T) মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশব্যাপী এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি।
বিএনপির অন্যতম প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই বনানী টিঅ্যান্ডটি মাঠে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। বিশেষ করে কড়াইল বস্তি ও আশপাশের এলাকার হাজারো মানুষ ভোর থেকেই দলে দলে মাঠে জড়ো হন।
সরেজমিনে দেখা যায়, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আসা সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। খণ্ড খণ্ড মিছিল ও সারিবদ্ধভাবে নারী-পুরুষ মাঠে প্রবেশ করছেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাঠের জনসমাগম জনসমুদ্রে রূপ নেয়।
অনুষ্ঠানস্থলের চারপাশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলে।
জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির ইশতেহারে অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল ‘ফ্যামিলি কার্ড’। এই কার্ডের মাধ্যমে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সরকার ভর্তুকি মূল্যে নিয়মিত চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পাবে। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা ও শিক্ষা সহায়তাও দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রথম ধাপে ঢাকা মহানগরীসহ দেশের নির্দিষ্ট কয়েকটি এলাকায় এই কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে। পরে পর্যায়ক্রমে সারাদেশের যোগ্য পরিবারগুলোকে এ সুবিধার আওতায় আনা হবে।
অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসা কড়াইল বস্তির বাসিন্দা আমেনা খাতুন বলেন, “আমরা দিন আনি দিন খাই। বাজারে সব কিছুর যে দাম, তাতে পোলাপান নিয়া সংসার চালানো খুব কষ্ট। শুনছি এই কার্ড দিয়া কম দামে রেশন পামু। প্রধানমন্ত্রী আমাগো কথা দিছিলেন, আইজ সেই কথা রাখতাছেন। তাই সকালেই মাঠে চইলা আইছি।”
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও দলীয় সূত্র জানায়, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হন। পরে কয়েকজন সুবিধাভোগীর হাতে প্রতীকীভাবে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিয়ে তিনি দেশব্যাপী এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি মন্ত্রিসভার একাধিক সিনিয়র সদস্য এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগরীর শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সরকারি মহল মনে করছে, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য একটি বড় সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী হিসেবে কাজ করবে।
